Update News

পোল্ট্রি ফিড আমদানির কথা বলে কনটেইনারে বিদেশি মদ, ব্যবসায়ী আটক

বছরের পর বছর মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য আমদানি করার অভিযোগে, ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। রাজধানীর বিজয়নগর থেকে মাস্টারমাইন্ড টিটু ও সহযোগী কবিরকে প্রেপ্তার করা হয়। এখন পর্যন্ত তারা প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অর্থপাচার করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের পূর্বগ্রামে থাকেন অর্থ-বিত্তহীন খোরশেদ আলম। স্থায়ী কোন আয় না থাকায় তার দিন কাটে খেয়ে না খেয়ে।
অথচ এই খোরশেদই বছরখানের ধরে সিঙ্গাপুর থেকে দফায় দফায় আমদানি করেছেন নিষিদ্ধঘোষিত পণ্য। শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পোল্ট্রি শিল্পের যন্ত্রপাতির নামে পাঁচ, দশ বিশ, পঞ্চাশ নয়; একে একে ৯০ কন্টেইনার ভর্তি করে এনেছেন মদ, সিগারেট সহ উচ্চ শুল্কের পণ্য। এসব পণ্যের আমদানিতে শুল্ক দেয়ার কথা ৬০১ শতাংশ হারে। তবে তিনি দিয়েছেন মাত্র ১ শতাংশ। তা কী করে সম্ভব? শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তের পর এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে বের হয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। আসলে অভাবী খোরশেদকে সামনে রেখে ভুয়া কাগজ পত্র বানিয়ে, তার জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে যাবতীয় অপকর্ম করেছেন মোতালেব নামের আরেক নেপথ্যের নায়ক! তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খোরশেদের নামে সুকৌশলে খিলক্ষেত থানার ডুমনি ইউপি অফিস থেকে তার মালিকানায় হিনান আনহুই এগ্রো এলসি নামের বাণিজ্যিক আমদানিকারক ট্রেড লাইসেন্স নেয়া হয়। অথচ ইউপি চেয়ার‍ম্যান দাবি করেন এই লাইসেন্স তিনি দেননি। এই নামে তার ইউনিয়নে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই।
শুল্ক গোয়েন্দা বলছে, মোতালেবই শেষ নয়; এর পেছনে আছে আরও কয়েকজন। ওই চক্রটি খোরশেদ ও মোতালেবকে সামেনে রেখে ঘটিয়েছে মুদ্রাপাচারের এই অভিনব ঘটনা; এখন খোঁজা হচ্ছে নেপথ্যের আসল নায়কদের।
এবার গন্তব্য চট্টগ্রাম বন্দর। চারিদিক ব্যস্ততা। পণ্য আসছে; পণ্য যাচ্ছে। থরে থরে সাজানো হাজার হাজার পণ্যবাহী কন্টেইনার। কোনটি কার কন্টইনার আর এসবের মধ্যে কি আছে, কোথাই বা যাচ্ছে তার সবই নজরে আছে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের। আর উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির কড়া নজরদারি তো আছেই। অথচ দিনে পর দিন ফাঁক গলে একে একে বের হয়ে গেছে ৭৮টি কন্টেইনার।
তথ্য প্রমাণ বলছে, এসব পন্য আমদানিতে সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে মেসার্স রাবেয়া এন্ড সন্স। ২০০০ সালে বেনাপোল শুল্কবন্দর থেকে লাইসেন্স নেয়া এ প্রতিষ্ঠানের মালিক জালাল উদ্দিন। ঘটনা ধরা পড়ার পর যিনি এখন নিরুদ্দেশ।
শুল্ক গোয়েন্দার হিসাবে, ধরা পড়া ১২ কন্টেইনারের পণ্যমূল্য ১৩৯ কোটি টাকা। বাকি ৭৮ কন্টেইনারের পণ্যের বাজারমূল্য ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। মিথ্যা ঘোষণার কারণে উচ্চ শুল্কের এবং নিষিদ্ধ এসব পণ্যর জন্য সিঙ্গাপুরের রপ্তানিকারক যমরাজ ইন্ডাস্ট্রিকে ব্যাংকের মাধ্যমে কাগজ কলমে দেয় হয়েছে মাত্র ১০ কোটি টাকা। শুল্ক গোয়েন্দা বলছে, এই প্রতিষ্ঠানটিও ভুয়া। তার মানে কৌশলে ৯০ কনটেইনারের পুরো টাকাটা পাজার করে এর সুবিধা নিয়েছে এদেশেরই একটি চক্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*